April 19, 2026, 1:04 pm

বেনাপোলে যুবক হত্যাকান্ডে সন্দেহে ভাজন স্বামী স্ত্রী আটক

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল দুর্গাপুর গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে গলায় তার পেচিয়ে আল আমিন হত্যাকান্ডে সন্দেহ ভাজন স্বামী স্ত্রী দুইজনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ যশোর এর সদস্যরা। নিজ বাড়ির সামনে হত্যাকন্ডের পর এলাকায় বাতাসে নানান ধরনের গুঞ্জন ছড়ালেও হত্যাকান্ডের তিন দিন পার হলেও আসল রহস্য উন্মোচন হয়নি এখনও।

এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে বেনাপোলের দুর্গাপুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহার কটিলাকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে জহুরুলের স্ত্রীর সাথে আল আমিন এর পরকীয়া প্রেম ছিল।

কামরুন্নাহার জহুরুল দম্পত্তির দশ বছরের ছেলে জাকারিয়া বলেন, আল আমিন তাদের বাড়িতে মাঝে মধ্যে যেত। এবং তাদের খাওয়া দাওয়া সম্পর্কে খোজ খবর নিত। এছাড়া মাঝে মধ্যে আমাদের স্কুলেও পৌছে দিত তার সাইকেলে করে। তার মায়ের সাথে মাঝে মধ্যে মোবাইল ফোনেও কথা হত আল আমিন এর।
জুহুরুলের বড় স্ত্রী শাহানারা জানায় তার স্বামী ও তার ছোট স্ত্রী কামরুন্নাহার এর বয়সের তফাৎ ছিল অনেক। আমি অন্য বাসায় থাকতাম। সম্প্রতি আমার স্বামী আমাদের এক বাসায় নিয়ে আসে। সেখান থেকে প্রায় মাসে খানেক আবার কামরুন্নাহার আমার স্বামীর ব্যাবসায়ীক প্রতিষ্ঠান দুর্গাপুর রাস্তায় চলে যায়। সেখানে একটি রুমে তারা থাকত।

জহুরুলের বড় স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা বেগম বলেন, আল আমিন এর সাথে তার ছোট মায়ের সম্পর্ক ছিল এটা তারা লোক মুখে শুনেছে। প্রায় তিন চার মাস আগে তার সাথে অনৈতিক কাজে মিলিত হওয়ায় তাদের তার পিতা জহুরুল দেখে ফেলে। এটা আমরা শুনেছি। অপরদিকে স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে লোক মুখে শনেছি তবে তাদের কোন দিন কোন অনৈতিকতার কাজে জড়িত আছে এমন অবস্থায় দেখি নাই বা শুনি নাই।

যশোর ডিবি পুলিশ জানায় আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জহুরুল কামরুন্নাহার দম্পত্তিকে মঙ্গলবার বেনাপোলের দুর্গাপুর রোডের একটি ইজিবাইক চার্জের গ্যারেজ থেকে নিয়ে এসেছি।

উল্লেখ্য গত রোববার রাত্রে কোন এক সময় আল আমিনকে গলায় তার পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে নৃশংশভাবে হত্যা করে তার বাড়ির সামনে গাছের নিচে ফেলে যায়। পরের দিন সোমবার সকালে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা